স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামের আলোচিত যৌন নির্যাতনে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার অন্যতম আসামি খাদিমপুরের শান্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি টিম টাঙ্গাইল জেলার অর্জুনা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত শান্তি (৫০) আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের মৃত ইয়াজ উদ্দিনের ছেলে। তাকে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের নাবালিকা কন্যা সুমাইয়া আক্তার(১৪) তার নিজ বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমাইয়া আক্তারের মৃত্যু হয়। আত্মহত্যার ঘটনাটি জানাজানি হলে ঘটনাক্রমে জানা যায়, ঘটনা রাতে সিদ্দিকুর রহমানের বাড়ির পাশে সাধুসঙ্গ ফকিরি গান হচ্ছিল। সিদ্দিকুর রহমানের বন্ধু কুষ্টিয়ার ইবি থানার নওদাপাড়ার মৃত জামালের ছেলে লোকমান রহমান (৩৫) সুমাইয়া আক্তারকে বাড়িতে একা পেয়ে যৌন নির্যাতন করেন। ঘটনা জানাজানি হলে লোকলজ্জার ভয়ে সুমাইয়া আক্তার  অপমানে নিজ বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করলে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় উক্ত সুমাইয়া আক্তারের মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি এলাকার আলোচিত ঘটনা হাওয়ায় ভিকটিমের পিতা সিদ্দিকুর রহমান বাদি হয়ে উল্লেখিত আসামি লোকমান রহমান  ও তার গানের দলের সদস্য শান্তকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে,  চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলানং-০১তাং-০৪/০৬/২১, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ক/৩০ রুজু করা হয় ।
গতকাল মঙ্গলবার  সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাসানুজ্জামান ইন্সপেক্টর (অপারেশন) একরামুল হোসেনের নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এজাহার নামীয় পলাতক আসামী শান্তিকে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর থানাধীন অর্জুনা গ্রাম হইতে  গ্রেপ্তার করা হয়। এজাহারনামীয় পলাতক অপর আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।