দর্শনা অফিসঃ আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অনেক প্রতিক্ষিত চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নবগঠিত গড়াইটুপি ইউপি নির্বাচন। এ নির্বাচনের বাকি মাত্র একটি রাত। আর এ রাত পোহালেই গোপন কক্ষে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট প্রয়োগ করবেন  ভোটারেরা। আর ভোটারেরা গোপন কক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত করবেন তাদের পছন্দের প্রার্থীদের। নির্বাচনের দিন ঘুনিয়ে আসায় এলাকার সাধারন ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে কে প্রথম বারের মত নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। কে বসবেন প্রতিক্ষিত নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদের সিংহাসনে। এ নিয়ে নির্বাচনী সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে  প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের হিসাব নিয়ে। নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়নে সাড়ে ১৬ হাজার। এ ভোটের পিছনে ছুটছেন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদন্দি ৫ প্রার্থী। তাছাড়া নির্বাচনী এলাকার নিজ,নিজ ওয়ার্ডের ভোটারদের দ্বারে,দ্বারে ছুটছেন ৯টি ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মিহিলা ও পুরুষ ৪৫ সদস্য পদপ্রার্থী।নির্বাচনে প্রার্থীরা নিজেদের ভোট ব্যাংক মজবুত করতে ছুটতে থাকেন ভোটারদের দ্বারে, দ্বারে। আর নির্বাচনের দিন ঘুনিয়ে আসায় প্রচারণায় সরগরম হয়ে ওঠে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম মহল্লা।প্রার্থীদের সমর্থনে মাইকিং এর পাশাপাশি গণসংযোগ চলছে ভোটারদের দ্বারে,দ্বারে ভোট প্রার্থনার মাধ্যমে। চলছে পাড়ায় পাড়ায় গনসংযোগ ও উঠান বৈঠক। নির্বাচনকে ঘিরে ইউনিয়নের হাট-বাজার পাড়া-মহল্লায় সর্বত্র বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। নির্বাচনের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের ব্যস্ততা ততোই বাড়ছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটছে প্রার্থীদের। ভোটারদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক ও লিফলেট তুলে দিচ্ছেন প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা। নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পাশাপাশি সংরক্ষিত মহিলা ও ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থীরাও বসে নেই। তারা সকলেই ছুটছেন একই উদ্দ্যেশে ভোটারদের মন জয় করে নিজেদের ভোট ব্যাংক মজবুত করা। প্রার্থীরা ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনকে ঘিরে চায়ের দোকানগুলোতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ফলে সরগরম থাকছে চায়ের দোকান। পাড়া-মহল্লার দোকানে সব সময় ভিড় থাকলেও গ্রামের দোকানে থাকে ভিন্ন চিত্র। গ্রামের কর্মীজীবী মানুষরা চায়ের দোকানে ভিড় করেন সকাল ও সন্ধ্যায়। সেই সাথে দোকানে বসে চায়ের কাপে চুমুক আর টেলিভিশন দেখার সঙ্গে চলছে ভোটের আলোচনা।কেমন প্রার্থীকে ভোট দেবেন ভোটারেরা, তা নিয়ে কসছেন হিসাব-নিকাশ। নবগঠিত ইউনিয়নের সাধারন ভোটারেরা বলেন, এ যেন নবযৌবন ফিরে পাওয়া। সাবেক তিতুদহ ইউনিয়ন ভেঙ্গে বিভক্ত হওয়া নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন। প্রথম বারের মত নবগঠিত ইউনিয়নে ভোট।আমরা একাধিকবার ভোট দিলেও এই ইউনিয়নের জন্য প্রথম ভোটার।এ ইউনিয়নে ভোট দিতে পারলে আমারা হব গর্বিত ভোটার। যেমন প্রথম ভোটার হলে যা হয়, ঠিক তেমনটি মনে আনন্দে ভোরে যাচ্ছে ইউনিয়নের প্রথম ভোটার হয়ে। যারা দলের সরাসরি সমর্থক তারা তো তাদের পছন্দের প্রার্থীর হয়ে ভোট করছেন। আর যারা সমর্থক কিংবা সাধারণ ভোটার তারা সকলেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। ভোটের রাতে ঠিক করবেন প্রার্থীদের মধ্যে যোগ্যকে। তবে তুলনামূলোক যোগ্য প্রার্থীকেই তারা তাদের মূল্যবান ভোটটি দেবেন বলে জানান।নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদে ৮ হাজার ৩০৫ জন পুরুষ এবং ৮ হাজার ১৬৯ জন মহিলা ভোটার। সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৭৪ জন। এরমধ্যে এর বিপরীতে নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পাশাপাশি সংরক্ষিত মহিলা ও ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থীরাও বসে নেই। তারা সকলেই ছুটছেন একই উদ্দ্যেশে ভোটারদের মন জয় করে নিজেদের ভোট ব্যাংক মজবুত করা। চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন তিতুদহ ইউনিয়নে তিন,তিন বার নির্বাচিত সফল চেয়ারম্যান ও নবগঠিত গড়াইটুপি ইউপি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত (ধানের শীষ) প্রতীকের প্রার্থী আকতার হোসেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত (নৌকা) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জনপ্রিয় প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান সাব্দার হোসেনের সুযোগ্য পুত্র রাজনীতি ও শিক্ষাবিদ শফিকুর রহমান রাজু, আ.লীগ এর বিদ্রোহী প্রার্থী সতন্ত্র হিসাবে (আনারস) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন আ.লীগের একাংশের সভাপতি আব্দুল মতিন, সতন্ত্র হিসাবে (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আ.লীগ নেতা আব্দুল ওয়াহেদ, জামায়াত ইসলাম সমর্থীত সতন্ত্র প্রার্থী (মোটর সাইকেল) প্রতিক নিয়ে রেজাউল করিম। এছাড়া ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা এবং পুরুষ সদস্য প্রার্থী তারাও প্রচারণায় রয়েছে মুখরিত। সদস্য (মেম্বর) প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১নং ওয়ার্ডে রওশন আরা বেগম (হেলিকপ্টার), উম্মে হাসিনা (বক) ও নাসিমা খাতুন (মাইক) ২নং ওয়ার্ডে তাসলিমা খাতুন (মাইক) ও মৌসুমী বেগম (বক) এবং ৩নং ওয়ার্ডে তাছলিমা খাতুন (মাইক) ও শাহিনুর বেগম (বক) প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। সাধারণ সদস্য পদে ১নং ওয়ার্ডে সাঈদ খোকন (ফুটবল), মোক্তার হোসেন (তালা), পিন্টু মিয়া (মোরগ), আসাদুল হক (বৈদ্যুতিক পাখা) ও স্বপন আলী (টিউবওয়েল) ২নং ওয়ার্ডে রবিউল ইসলাম (ফুটবল), ইসানুল হক (মোরগ) ও আব্দুল হক (টিউবওয়েল)  ৩নং ওয়ার্ডে ছানোয়ার হোসেন (ফুটবল), হাফিজুর রহমান (মোরগ) ও মোমিন মালিতা (টিউবওয়েল) ৪নং ওয়ার্ডে আক্কাছ আলী (মোরগ), আব্দুস সাত্তার শেখ (ভ্যানগাড়ি), শাহাজুল হক (ফুটবল) ও নিতাই চন্দ্র পাল (টিউবওয়েল) ৫নং ওয়ার্ডে জহিরুল ইসলাম (টিউবওযের), মহিদুল ইসলাম (বৈদ্যুতিক পাখা), আসাদুল হক (মোরগ),  ফারুক হোসেন চাঁন (তালা) ও মোফাজ্জেল হোসেন (ফুটবল) ৬নং ওয়ার্ডে আব্দুল হালিম (মোরগ), আসাদুল হক (টিউবওয়েল), নজরুল ইসলাম (তালা) ও জিল্লুর রহমান (ফুটবল) ৭নং ওয়ার্ডে মতিয়ার রহমান (ফুটবল), হাসেম আলী (মোরগ), অলামিন হোসেন (তালা), আলমগীর হোসেন (বৈদ্যুতিক পাখা) ও মহিউদ্দিন (টিউবওয়েল) ৮নং ওয়ার্ডে আব্দুল করিম (ফুটবল), মুক্তার হোসেন (তালা), মো. ইসরাফিল (ভ্যানগাড়ি), রাশিদুল ইসলাম (মোরগ), জাকির হোসেন (টিউবওয়েল) ও মো. আসাদুল্লাহ (বৈদ্যুতিক পাখা) এবং ৯নং ওয়ার্ডে ফারুক মিয়া (টিউবওয়েল), শাহ আলম (মোরগ), আব্দুল কাদের ওরফে আলী কদর (ফুটবল) প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী সকল প্রার্থী আশাবাদি তারা নির্বাচনে নির্বাচিত হবেন। তবে কে নির্বাচিত হবেন তা দেখতে হলে ভোট গ্রহণের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।