চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা খাঁন
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার:বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা খাঁন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি…..রাজেউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরে বাদ যোহর তাঁকে গার্ড অব অনার শেষে চুয়াডাঙ্গা শহরের পুরাতন গোরস্থানে দাফনকাজ সম্পন্ন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

গতকাল দুপুরে পুরাতন গোরস্থান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মোস্তফা খাঁনের প্রতি প্রথমে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সালাম প্রদর্শন করা হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল সশস্ত্র সালাম প্রদর্শন করেন। এ সময় মরহুম এর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষে মরহুম মোস্তফা খাঁনের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং নিহতের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
মরহুম এর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের জ্বিনতলা মল্লিক পাড়ার মৃত কুদরত আলী খাঁনের ৯ সন্তানের মধ্যে মোস্তফা খাঁন ছিলেন সেজ পুত্র। ৭১’এ দেশ মাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন অকুতোভয় এ সৈনিক। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহ ইউনিয়নের ঐতিহাসিক আট কবর এলাকায় যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন তিনি। সেখানে ১৩ জনের মধ্যে ৮ জন শহীদ হলেও ৫ জন বীর সৈনিক প্রাণে বেঁচে যান। বেঁচে যাওয়া ওই ৫ জনের মধ্যে মোস্তফা খাঁনের নাম রয়েছে প্রথমেই। সবশেষ তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন।
মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনীসহ বহু গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা খাঁন ছিলেন ডিবিসি টেলিভিশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি জিসান আহমেদের নানা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *