জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা  পৌর আওয়ামী লীগের আলোচনা ও দোয়া মহাফিল অনুষ্ঠিত
‘গো অ্যাহেড’ কমান্ডের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান সরাসরি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নির্দেশ দেনঃছেলুন জোয়ার্দ্দার এমপি
স্টাফ রিপোর্টারঃ:চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠন মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তারিই ধারাবাহিকতায় ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া  মহাফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার সময় চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মহাফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভা ও দোয়ামহাফিলে  চুয়াডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম জহুরুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি  জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি বলেন,খুনি কর্নেল রশিদ, ফারুক রহমান কুমিল্লায় গিয়ে মোশতাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তারপর ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসে সেনানিবাসে জিয়াউর রহমানের বাসায় গিয়ে এই কাজে জিয়াউর রহমানকে সম্পৃক্ত করেন। জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হয়েও সেদিন হত্যাকারীদের বলেছিলেন ‘গো অ্যাহেড’। সেনা নীতিমালায় যখন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কোনো অধস্তন কর্মকর্তাকে বলেন ‘গো অ্যাহেড’, তার মানে এটা একটা নির্দেশ, এটা কমান্ড এবং অধস্তন কর্মকর্তা সেটা পালন করতে বাধ্য। তাই জিয়াউর রহমান সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করতে। সুতরাং জিয়াউর রহমান খুনি, তিনি খুনের সঙ্গে জড়িত।’
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন জানতে পারলেন অধস্তন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত হবে, রাষ্ট্রপতিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে, প্রচেষ্টা করছে, তখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্ব ছিল অধস্তন কর্মকর্তাদের আটক করে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া। মার্শাল ল’ কোর্টে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। জিয়াউর রহমান সেটা নেয়নি। বরং সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল।’
সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি আরো  বলেন,‘জিয়া মুক্তিযোদ্ধার আবরণে মূলত পাকিস্তানের এজেন্ট ছিলেন। তা প্রমাণিত। একজন মুক্তিযোদ্ধা কখনো রাজাকার, আলবদরদের নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে না। তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দিতে পারে না।জিয়া যদি বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত না থাকতেন তাহলে কেন ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স দিয়েছিলেন? কেন খুনিদের রক্ষা করছিলেন? কেন খুনিদের দূতাবাসে দূতাবাসে পদায়ন করেছিলেন?’
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ও যুব লীগ নেতা আব্দুল কাদের এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খুস্তার জামিল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শামসুজ্জোহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফলি মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক এ্যাড: আবু তালেব, উপ-প্রচার সম্পাদক শওকত আলি বিশ্বাস, পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন হেলা, পৌর ওয়ার্ডের সকল সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক গণ,জাতীয় শ্রমিক লীগ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি আফজালুল হক বিশ্বাস,চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক আহবায়ক আরেফিন আলম রঞ্জু, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা নুরুন্নাহার কাকলী, জাতীয় মহিলা সংস্থা চুয়াডাঙ্গার চেয়ারম্যান নাবিলা রুকসানা ছন্দা, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গরীব রুহানি মাসুম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহাজাদী মিলি, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া সাহাব, যুব মহিলা লীগের আহবায়ক আফরোজা পারভীন,জেলা যুবলীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম আসমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রশিদ,রেজাউল করিম, টুটুল, টিপু সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
১৫ই আগষ্টে  জাতির পিতা সহ তার পরিবারের যে সকল ব্যাক্তিরা শাহাদাৎ বরণ করেছেন এবং সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত দোয়া অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদউজ্জামান লিটু বিশ্বাস।