গাংনীতে সরকারী আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নিমার্ণে ব্যাপক অনিয়ম। তদন্ত টিমের হস্তক্ষেপ কামনা


★করোনা পরিস্থিতে কাজ করা সম্ভব হয়নি বলেন জানান প্রকল্পের পিআইসি মোহন মেম্বার

গাংনী অফিসঃ গাংনীতে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধান মন্ত্রীর উপহার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহ প্রদানের লক্ষে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের ঘর নিমার্ণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে ঘুরে ঘর নিমার্ণে নানা অনিয়ম চোখে পড়েছে।

জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে ১ম পর্যায়ে সামান্য জমি আছে, ঘর নাই শুধুমাত্র তাদের জন্য ১৭ টি গৃহের বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দকৃত গৃহগুলি গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতার্র তত্বাবধানে নির্মাণ শেষে উপকার ভোগীদের হস্তান্তর করা হলেও ঘর নির্মাণে কারচুপির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২ কক্ষ বিশিষ্ট টিন শেডের আধা পাকা গৃহ পেয়ে উপকারভোগীরা সবাই সন্তোষ প্রকাশ করলেও ঘর দেখে তারা খুশী হতে পারেনি।

জানা গেছে,অসহায় দুস্থ সেই মানুষগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে নিম্নমানের ঘরে আতংক নিয়ে বসবাস করছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১ম পর্যায়ের ১৭ টি গৃহ নির্মাণ কাজ শেষ করে উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে।২য় পর্যায়ে ৬২ টি গৃহের মধ্যে ৪১ টি নির্মিত হয়েছে, ৩০ টির গৃহের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।প্রকল্প বাস্তবায়ন কাগজে কলমে শেষ হলেও কার্যত সরেজমিনে গিয়ে কোন ঘরই নির্মাণ ঠিকমত হয়নি।

উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের অন্তর্গত জুগিরগোফা করিমপুর মোড়ে মৃত করিম ফকিরের স্ত্রী হালেমন নেছার নামে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। ঘর হস্তান্তর করা হলেও ঘর নির্মাণে রয়েছে না অনিয়ম।

সরেজমিনে ঘুরে নানা প্রশ্নের জবাবে গ্রহিতা হালেমান জানান, আমাকে ৬ মাস আগে ঘর হস্তান্তর করেছে। ঘরের অনেক কিছুই বাকী।

সামনের বারান্দা একেবারেই নির্মাণ করা হয়নি। জানালা দরজা নিম্নমানের কাঠ বাটাম দিয়ে তৈরী।অল্প দিনেই তা ভেঙ্গে গেছে। টয়লেট ও রান্না ঘর না করে দেয়ায় আমি কষ্ট করে নিজের অর্থ দিয়ে ঢালাই করে ব্যবহার উপযোগী করেছি। টয়লেটের রিং-স্লাব,গ্যাস পাইপ, প্যান সব আমি নিজের টাকায় সম্পন্ন করেছি। ঘর নিমার্ণে চিকন বাটাম আমি নিজে ক্রয় করে দিয়েছি। জানালায় কোন গ্রিল দেয়া হয়নি।

দুইকক্ষের মাঝখানে কোন দরজা দেয়া হয়নি। টয়লেটের প্লাষ্টারসহ কোন কাজই করা হয়নি।ঘরের দরজা ছোট হওয়ায় নিচ দিয়ে বিড়াল সহ নানা পশু পাখী ঘরে প্রবেশ করে আমার খাবার নষ্ট করছে।

এব্যাপারে ৩ লাখ ব্যয়ে নির্মিত ঘরের পিআইসি আব্দুল গনি মেম্বরের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঘর নির্মাণে কোন অনিয়ম হয়নি।জানালাতে গ্রিল লাগানোর কথা নেই। প্রধান মন্ত্রীর পরিদর্শন টিম আসলেও আমার কোন সমস্যা নেই। এনিয়ে লেখালেখি করে কোন লাভ হবে না।

একইভাবে উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা হালসানা পাড়ার আজিজুলের ছেলে বাবুর নামে প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। ঐ ঘর নিমার্ণেও রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। সরেজমিনে ঘর মালিক বাবুর সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, আমার ঘর নির্মাণ কাজ শেষ না করে আমাকে হস্তান্তর করতে চাই।

আমি রাজি হইনি। ঘরের টয়লেট ও রান্নাঘর নিমার্ণ করা হয়নি। দরজা ও প্যান, টয়লেটের দরজা, রিং স্লাবসহ সমস্ত কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়নি ।দেড় বছর হয়ে গেল কাজের কোন অগ্রগতি নেই। মেম্বও মোহন আলীকে বলা হলেও তিনি নানা অযুহাতে গড়িমসি কওে থাক্।েএমতাবস্থায় পরিবার নিয়ে আমি কিভাবে ঘরে বসবাস করবো।

একইভাবে হাড়াভাঙ্গা মোল্লাপাড়ার রফিকুলের ঘর নিয়েও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘর মালিকের স্ত্রী জানান, নিম্নমানের রড দেয়ার কারনে আমরা নিজেরা রড ক্রয় করে দিয়েছি। ঘরের মেঝে আমরা মাটি ভরাট করেছি। ঘরের বিভিন্ন জানালা দরজা নিজেরা রং করেছি। আজও বিদ্যুৎ সংযোগ ও টিউবওয়েল দেয়া হয়নি।

এব্যাপারে প্রকল্পের পিআইসি মোহন মেম্বর জানান, করোনা পরিস্থিতির কারনে কাজ করা সম্ভব হয়নি বাদবাকী কাজ অবিলম্বে শেষ করা হবে। এনিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হলে সমস্যা হতে পারে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিরঞ্জন চক্রবর্তী জানান,সব ঘর পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি।তবে গৃহ নির্মাণ কাজ সরেজমিনে জেলা প্রশাসক ড. মুনসুর আলম খান, উপজেলা নিবার্হী অফিসার মৌসুমী খানম সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নিয়ে পরিদর্শন করে কাজের মানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।