গাংনীতে দুর্যোগ সহনীয় ঘর নিমার্ণের ২ বছর অতিবাহিত হলেও নির্মাণে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ

গাংনীতে কাগজ কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলেও শতভাগ নির্মাণ না করেই ঘর হস্তান্তর

বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় অন্ধকারে সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে ভয়ে রাত কাটাতে হয় বিধবা রাশেদা ও বেগমের

★জানালা দরজা নিম্নমানের কাঠ-বাটাম দিয়ে তৈরীঃঘরে দেওয়া হয়নি কোন গ্রীল
★দরজা জানালা রং করাসহ বিভিন্ন আসবাব পত্র নিজ অর্থে ক্রয় করার অভিযোগ সুবিধাভোগীদের
★স্থাপন করা হয়নি টিউবয়েল:দেওয়া হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগ
★টয়লেটের জন্য ৫টি রিং স্লাব তৈরী করা হলেও নেই গ্যাস পাইপ
★ঘরের মেঝেতে মাটিভরাটের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ
★জানালার পাল্লা ভিতরে হওয়াই বৃষ্টির পানিতে ভিজে বিনষ্ট হচ্ছে আসবাব পত্র

দুর্নীতির অভিযোগ। অনিয়মের দায় কার!

গাংনী অফিস : মেহেরপুরের গাংনীতে প্রধান মন্ত্রীর উপহার ভূমিহীন ও গৃহহীন (জমি আছে ঘর নাই)পরিবারকে দুযোর্গ সহনীয় গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের ঘর নিমার্ণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।সরেজমিনে ঘুরে ঘর নিমার্ণে নানা অনিয়ম চোখে পড়েছে। এসব দুনর্ীতির দায় ইউপি চেয়ারম্যান -মেম্বরের না প্রশাসনের । আসলে দায় কার !

 

জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে ১ম পর্যায়ে সামান্য জমি আছে, ঘর নাই শুধুমাত্র তাদের জন্য ৬৪ টি গৃহের বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দকৃত গৃহগুলি গাংনী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতার্র তত্বাবধানে ইউপি চেয়ারম্যানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মেম্বরদের মাধ্যমে নির্মাণ শেষে উপকার ভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়।২ বছর কাল অতিবাহিত হলেও ঘর নির্মাণে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ কক্ষ বিশিষ্ট টিন শেডের আধা পাকা গৃহ পেয়েও ঘর দেখে তারা খুশী হতে পারেনি।

জানা গেছে,অসহায় দুস্থ সেই মানুষগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে কথিত দুযোর্গ সহনীয় নিম্নমানের নিমার্ন সামগ্রী দিয়ে নির্মিত ঘরে আতংক নিয়ে বসবাস করছে।

২য় পর্যায়ে ভূমিহীন পরিবারের মাঝে ২ শতক খাস জমির উপর সরকারী আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ৬২ টি গৃহের মধ্যে ৪১ টি নির্মিত হয়েছে, ৩০ টির গৃহের নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কাগজে কলমে শেষ হলেও কার্যত সরেজমিনে গিয়ে কোন ঘরই শতভাগ নির্মাণ ঠিকমত হয়নি।অথচ উপকারভোগীদের মাঝে বেশীরভাগ ঘরই হস্তান্তর করা হয়েছে।

উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের অন্তর্গত রাইপুর বোর্ড ঘর পাড়ায় শাহ জামাল এর নামে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। ঘর হস্তান্তর করা হলেও ঘর নির্মাণে রয়েছে নানা অনিয়ম দুনর্ীতি।
সরেজমিনে ঘুরে নানা প্রশ্নের জবাবে উপকারভোগী শাহজামালের স্ত্রী হুসনেয়ারা জানান, আমাকে কয়েক মাস আগে ঘর হস্তান্তর করেছে।

ঘরের অনেক কিছুই বাকী।জানালা দরজা নিম্নমানের কাঠ বাটাম দিয়ে তৈরীকরা হয়েছে। ঘরের ব্যবহৃত রড ও আড়া বর্গা নিজেরা ক্রয় করে দিয়েছে। ঘরের ২ টি কাঠের আড়া ও ৩ টি বর্গা দেয়া হয়েছে। টয়লেটের জন্য মাত্র ৫ টি রিং-স্লাব স্থাপন করা হলেও গ্যাস পাইপ দেয়নি। সব আমি নিজের টাকায় সম্পন্ন করেছি। জানালার গ্রিল না দেয়ায় আমি রড ক্রয় করে লাগিয়েছি। ঘর নিমার্ণে চিকন বাটাম আমি নিজে ক্রয় করে দিয়েছি। জানালায় কোন গ্রিল দেয়া হয়নি। ঘরের দরজা জানালা আমি নিজের অর্থে রং করেছি। আরও জানান, ঘরে জানালার পাল্লা ভিতরের দিকে হওয়ায় বৃষ্টির পানি ঘওে মধ্যে ঢুকে সব মালামাল ভিজে গেছে।পানির টিউবওয়েল দেয়নি।
এ ব্যাপারে নির্মিত ঘরের পিআইসি হযরত আলী মেম্বরের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, ঘর নির্মাণে কোন অনিয়ম হয়নি । এনিয়ে লেখালেখি করে কোন লাভ হবে না।
একইভাবে উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের চেংগাড়া পূর্ব পাড়ার ফয়েজউদ্দীনের ছেলে হেলালের নামে প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। ঐ ঘর নিমার্ণেও রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। সরেজমিনে ঘর মালিক হেলালের স্ত্রীর সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, আমার ঘর নির্মাণ কাজ শেষ না করে আমাকে হস্তান্তর করেছে। ঘরের মেঝেতে মাটি ভরাটে আমি অতিরিক্ত ৪ হাজার টাকা দিয়েছি।ঘরের মধ্যে ১ টি দরজা দেয়নি। ঘরের টয়লেট ও রান্নাঘর নিমার্ণ শেষ করা হয়নি। বিদ্যুৎ সংযোগ ও টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়নি ।ঘরের জানালা দরজার রং আমরা নিজেরা করেছি। মেম্বর মহেশপুরের মখলেছুর রহমানের সাথে কথা বলা হলেও তিনি নানা অযুহাতে গড়িমসি করে থাক্ ে। আসলে উপজেলার সকল গ্রামে পরিদর্শন করলে একইরকম অভিযোগের পাল্লা ভারী হবে।

এমতাবস্থায় পরিবার নিয়ে আমরা কিভাবে ঘরে বসবাস করছি কেউ দেখে গেলনা। একইভাবে চেংগাড়া পূর্ব পাড়ার জিন্নাত আলী, রাশেদা (বিধবা) ও বেগম (বিধবা) ঘর নিয়েও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্বামী হারা অসহায় রাশেদা জানান, মাঠের ভিতরে ১ হাটু পানির মধ্যে আমরা কিভাবে বসবাস করছি আপনারা একবার দেখে যান। ঘরের উঠানে বড় গর্ত ,১ হাটু পানি জমে রয়েছে।বিদ্যুত সংযোগ না থাকায় অন্ধকারে বাগানের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা অভাবে ভয়ে ভয়ে রাত কাটাতে হয়।

ঘরের বিভিন্ন জানালা দরজা নিজেরা রং করেছি। আজও বিদ্যুৎ সংযোগ ও টিউবওয়েল দেয়া হয়নি।ঘরে যাতায়াতের জন্য কোন রাস্তা নেই। অন্যের জমি ও পুকুরের পাড় দিয়ে কাদার মধ্যে চলাচল করছি।

এব্যাপারে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক অনিয়ম কারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক মহোদয় ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর তদন্ত টিমের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *