রেজাউল করিম লিটন: প্রতিটি ক্ষেতের আইলে, রাস্তার পাশে, পুকুর পাড়ে অযত্নে-অবহেলায় বেড়ে ওঠা খেজুরের গাছ চুয়াডাঙ্গা জেলার অর্থনীতিতে আশীর্বাদ। শীত মওসুমে রস-গুড় উৎপাদন করে প্রায় ৫/৬ মাস স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে জেলার কয়েক হাজার পরিবার। করোনার সংকটে সংসার চালাতে সম্বল হবে খেজুরের রস-গুড়।

খেজুরের রস, গুড় ও পাটালী উৎপাদনে প্রসিদ্ধ জেলা চুয়াডাঙ্গা। এ জেলায় যে রস, গুড় ও পাটালী তৈরি হয়, তা নিয়ে শীত মৌসুমে রীতিমত কাড়াকাড়ি শুরু হয়। দেশের বাইরেও এর বেশ কদর রয়েছে। শীত আসছে। তাই কে কত আগে খেজুর রস সংগ্রহ করতে পারে সে প্রতিযোগিতা চলছে চুয়াডাঙ্গার গাছিদের মধ্যে। ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। জেলার সবখানেই শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহের কর্মযজ্ঞ ।

গাছিরা খেজুর গাছের ডাল-পালা পরিষ্কার করে যাবতীয় কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন। দিন দশেক পরেই মিলবে রস গুড়, পাটালি । রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয় এ জেলার গুড়-পাটালি।

জেলার দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের গাছি গণি মিয়া জানান, এক’শ খেজুর গাছ তুলেছেন এবার। এর থেকে রস-গুড়, পাটালি বিক্রি করে ৫/৬ মাস সংসার চলে যাবে তার।

একই এলাকার গাছি রহম আলী জানান, রস সংগ্রহে গাছে ভাঁড় (মাটির তৈরির পাত্র) বাঁধার আগে প্রতিদিন ভাঁড়গুলো ধুঁয়ে নিয়ে আগুন দিয়ে পোড়া দিই। এরপর গাছে ভাঁড় পাতি। সেই সাথে খেজুরের পাতা দিয়ে ভাঁড় ঢেকে দিই। এভাবে প্রতিদিন রস সংগ্রহ করি। গুড়-পাটালি করার সময় কোনো কেমিক্যাল মেশানো হয় না।

এদিকে সঠিক পদ্ধতিতে, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে যেন রস-গুড় উৎপাদন করেন গাছিরা-এ জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক মোঃ আলী হাসান জানান, বাঁদুরের মাধ্যমে খেজুর রসে নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর আশংকা থাকে। এ জন্য গাছিরা যে পাত্রে রস সংগ্রহ করবেন সেটা যেন ভালো করে ঢেকে রাখেন। বাঁদুড় বা অন্য কোনো প্রাণী রস ছুঁতে না পারে। ভোক্তারা যাতে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রস্তুত খেজুরের রস-গুড় পেতে পারেন এজন্য কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।

দেশের সবচে বড় খেজুরের গুড়ের হাট বসে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে। জেলায় মোট ২ লাখ ৫০ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। এ সব গাছ থেকে চলতি বছর ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।