কুষ্টিয়ায় গুদাম থেকে ৫২ মেট্রিক টন চিনি উধাও

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃকুষ্টিয়া চিনিকলের সুরক্ষিত গোডাউন থেকে ৫২ মেট্রিক টন চিনি উধাও হয়ে গেছে। ওই চিনির আনুমানিক বাজার মূল্য ৩২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এ ঘটনায় চিনিকলের স্টোরকিপার ফরিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তিনি সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চিনিকলের এমডি মোঃ রাকিবুর রহমান খান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাড়াই বন্ধ কুষ্টিয়া চিনিকলের ষ্টোরে রক্ষিত চিনির পরিমাণ নির্ণয় ও পর্যবেক্ষনকালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ৫২ মেট্রিক টন চিনি ঘাটতি পান। বিষয়টি তাৎক্ষনিক ভাবে মিলের এমডিকে অবগত করা হলে তিনি ষ্টোর কিপার ফরিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এছাড়া চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের কর্তৃপক্ষকে চিঠি মারফত বিষয়টি অবহিত করা হয়।

এদিকে প্রকৃত ঘটনার কারণ উদঘাটনে চিনিকলের মহা-ব্যবস্থাপক (কারখানা) কল্যাণ কুমারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা নির্দেশ দেয়া হয়।

নিরাপত্তা বলয় ভেদ ও সুরক্ষিত গোডাউনে রক্ষিত এত বিপুল পরিমাণ চিনি কিভাবে গায়েব হলো তা নিয়ে চিনিকলের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিপুল পরিমাণ চিনি চুরির সাথে মিলের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর একাংশ জড়িত বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এ পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। মিল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এরআগে দুর্নীতির দায়ে ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর কুষ্টিয়া চিনিকলের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মুর্শেদ (এমডি) চিনিকলের সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমানকে একযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত ১৯ বছরে কুষ্টিয়া চিনিকলটিতে লোকসান হয়েছে ৪২০ কোটি টাকা। ফলে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দৌরাত্ন, চরম দুর্নীতি,ব্যবস্থাপনা ত্রুটি ও ক্রমাগত লোকসানে ২০২০-২১ অর্থ বছর মিলে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এদিকে ঐতিহ্যবাহী এ মিলটি বন্ধ থাকায় প্রায় এক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্ম হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।