স্টাফ রিপোর্টার:দেশে শিক্ষা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২০টি বিদ্যালয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। চুয়াডাঙ্গা জেলার কুকিয়া চাঁদপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবন নির্মাণের কাজ করছে কুষ্টিয়ার ইসানুল হকের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাকী কাজ ঠিকভাবে শেষ করার অঙ্গীকার করে আবারও নির্মাণাধীন ভবনের বাকী অংশ নির্মাণ কাজ শুরু করে। তবে পুনরায় তারা একই ধরণের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় নির্মাণ শ্রমিক জানান, বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণ কাজে
সিডিউলে উল্লেখিত কলাম ও ছাদ ঢালায়ের নির্মাণে ৩-১ ফেরা খোয়া, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে ঢালায় করার কথা থাকলেও সেখানে ৬-১ ফেরা খোয়া, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে ঢালায় কাজ করা হয়েছে। ঢালাইতে পিকেট ইটের খোয়ার পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় ২ ও ৩ নম্বর ইটের খোয়া ও রাবিশ। তৃতীয় তলার ছাদ নির্মাণে ৬-১ ফেরা খোয়া, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে ঢালায় কাজ চলতে দেখে গ্রামবাসী আবার ভবনটির  নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের ৯০ শতাংশ কাজের অগ্রগতি হয়েছে। যেখানে সরকারি সিডিউল অনুপাতে ৩-১ এ ঢালায়  কাজ করার কথা থাকলেও সেখানে ৬-১এ ঢালায় কাজ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
ভবনের নির্মাণ কাজে প্রাক্কলন অনুযায়ী সামগ্রী ব্যবহার করার ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চুয়াডাঙ্গা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের সদর উপজেলায় দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রাক্কলিত প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করেছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত কর্মকর্তা রাশেদ বলেন, ‘ আমাদের প্রতিষ্ঠান অ্যাষ্টিমেট অনুযায়ী কাজ করেছে এরকম ভালোভাবে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ এ জেলায় আর কেউ এর আগে করেনি।’
চুয়াডাঙ্গা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী  প্রকৌশলী ফজলুর রহমান জানান, কুকিয়া চাঁদপুর গ্রামের বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণে যদি কোন ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির মাধ্যমে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বেলাল হোসেন জানান, শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্যই বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে আর সেই বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণেই যদি অনিয়ম হয় তাহলে বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখজনক। এটা কখনোই মেনে নেওয়ার মতো নই। অনিয়মের বিষয়টি সত্য হলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ হচ্ছে সেটা আমি জানি, কিন্তু ভবন নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে সেটা আমার জানা ছিল না। যখন সরকার কোনও কাজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় তখন সিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাধ্য যদি কোনও প্রতিষ্ঠান সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে কোনও ধরণের অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে তাহলে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।