আহসান আলম/সিহাব হাসান উৎসব: করোনার ভিতর কেউ বাড়ি থেকে বের হয়না। চারিদিকে শুধু ফাঁকা, আর যে ক’জন মানুষকে পাওয়া যায় তাদের ভিতর জরিমানার আতঙ্ক। শহরে আসলেও তারা তড়িঘড়ি করে বাড়ি যাওয়ার জন্য। আমার এই আখের রস খাওয়ার সময় ক’জনের আছে ? আগে গরমের সময় মানুষ লাইন দিয়ে দাড়িয়ে থাকতো আখের রস খাওয়ার জন্য। কেউ কেউ বলতে করে বাড়িতে নিয়ে যেত। কিন্ত এখন শহরে মানুষজনের আনাগোনা কম,তাই কে খাবে আমার এই আখের রস। অল্পকডা আখ নিয়ে বাজারে আসি। তা থেকে যে রস বিক্রি হয় সেই টাকাই এখন সংসার চালানোই কষ্ট। করোনায় আয় রোজগার একেবারেই কমে গেছে। এখন আর আগের মতো বিক্রি হয়না। সংসার চালাতি খুব কষ্ট হচ্ছে। এলাকার অনেকে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পেলেও আমাকে কে দেবে। এভাবেই তার নিজের কথাগুলো বলছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের সিঅ্যান্ডবি পাড়ার মৃত কালু শেখের ছেলে দিলু শেখ (৬০)। তিনি গত ৩০ বছর ধরে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন স্থানে আখের রস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। গতকাল শনিবার রাতে চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ হাসান চত্বরে আনমনে কোথায় যেন তাকিয়ে দেখছিলেন আর কি যেন ভাবছিলেন। জিজ্ঞাসা করতেই উপরবর্নীত কথাগুলো বলেন। তিনি আরও বলেন, আগে ইটভাটায় কাজ করতাম। এখন শরীরে বল পাইনা। তাই গত ৩০ বছর আগে ইটভাটার কাজ ছেড়ে দিয়ে স্যালোইঞ্জিন কিনে আখের রস তৈরীর মেশিন বানিয়েছি। স্বামী-স্ত্রী আর ৫ ছেলে মেয়ের সংসার হলেও ৩ মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে ২ ছেলে নিয়ে আমাদের ৪ জনের সংসার। বড় ছেলে জাবেদ শেখ (১৮) চুয়াডাঙ্গা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণিতে আর ছোট ছেলে আবেদ শেখ (১৫) একই স্কুলের ৮ম শ্রেনির ছাত্র। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারনে জাবেদ শেখ তার বাবার কাজে সহযোগীতা করে। আখের রস বিক্রি করে সংসার চালিয়ে যা থাকতো তার থেকে টাকা জমিয়ে ২ টা গরু কিনেছিলাম। বর্তমানে তার গরুর সংখ্যা ৫টি। করোনাকালীন সময়ে লকডাউন থাকার কারনে শহরে মানুষজনের আনাগোনা তেমন নেই এবং দোকানপাঠ বন্ধ থাকার করনে আগের মতো রস খেতে বাজারে আসে না কেউ। বিক্রি কম হওয়ায় আয়-রোজগার কম। ছেলেদের লেখাপড়ার আর সংসারের ৪ জন মানুষের খাওয়ার খরচ তার উপর আবার ৫ টা গরুর খাবার কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। লকডাউন চলাকালিন সময় এলাকার অনেকেই সরকারের দেয়া খাদ্য সহায়তা পেলেও তিনি এখনও কিছুই পাননি।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দিলু শেখ বলেন, কবে যে করোনা শেষ হবে, কবে যে আবার সবকিছু স্বাভাবিক হবে, কে জানে।
একটু কষ্টমাখা সুরে দিলু শেখ বলেন, ভোট আসলেই চেয়ারম্যান মেম্বারদের আমার বাড়ির ঠিকানা কখনও চেনাতে হয়নি। সরকারি খাদ্য সহায়তা অনেকেই পেয়েছে কিন্তু আমার বাড়ির ঠিকানা এখন সবার অজানা।