ঐক্যবদ্ধ হয়ে গড়ে তুলুন
দুর্বার গণআন্দোলন

পশ্চিমাঞ্চল ডেস্ক: বিএনপি এই অবৈধ দুর্নীতিবাজ সরকারকে সরাতে ‘দুর্বার গণআন্দোলনের’ ডাক দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ডাক দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর এবং হেফাজত ইসলামের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হতাহতের দায় সরকারকে নিতে হবে। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা অবৈধ সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আহ্বান জানাই।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও গণতন্ত্র হত্যার দায় নিয়ে এই অবৈধ সরকারকে জনগণের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে। দখলদার বেআইনী সরকারকে সরিয়ে জনগণের পার্লামেন্ট ও সরকার গঠনের লক্ষ্যে দেশের সকল গণতান্ত্রিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলবার আহ্বান জানাই। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে মামলা মানেই বিএনপি নেতা-কর্মীদের হয়রানীর পরিকল্পনা। গত ক’একদিনে সরকারী বাহিনী ও পুলিশ দিয়ে হত্যা, আওয়ামী এজেন্টদের দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ীঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সারা দেশে আওয়ামী সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্য অডিও নাটক সাজিয়ে বিএনপি নেত্রী নিপুন রায় চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়া ও সারা দেশে পুনরায় হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানী করার হীন পরিকল্পনা করছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই অনির্বাচিত সরকার তাদের বেআইনী ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রের সকল মূল্যবোধকে ধ্বংস করে, একদলীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার হীন চক্রান্ত করছে। একইসঙ্গে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য আবারও মিথ্যা প্রচারণা, মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারের পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে বিরোধী দলকে পুনরায় মামলা মোকদ্দমার বেড়াজালে আটকে গণতন্ত্র উদ্ধার, খালেদা জিয়ার মুক্তি, মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার আন্দোলনকে ব্যাহত ও দমন করা।
মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকায় হেফাজত আহূত হরতালের দিন ২৮ মার্চ বিএনপি নেতা নিপুন রায় চৌধুরীকে বাসা থেকে গ্রেফতার করে। ওই দিনই একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে জনৈক আরমানের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি বানোয়াট অডিও প্রচার করে। যা সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরী করা, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এটা সম্পূর্ণভাবে ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো এবং তাকে মিথ্যা দোষারোপ করার একটি জঘন্য চক্রান্ত। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ একইসঙ্গে সেই জঘন্য চক্রান্তের ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, করোনার সংক্রমণ মোকাবিলার কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। এবারের করোনা আক্রমণ এরইমধ্যে সেই সত্যকে জনগণের সামনে আতঙ্কের সঙ্গে তুলে ধরেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন উপযোগী তো নয়ই, উপরন্তু, শিক্ষিত বেকার তৈরী করছে। সামগ্রিকভাবে এই বেআইনী সরকার বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চলেছে। নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের অভিন্ন নদী পানির হিস্যা, সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা, ভারসাম্য বাণিজ্য থেকে বাংলাদেশ পুরোপুরী বঞ্চিত হচ্ছে।