এফ বি সি সি আই’ ২০২১-২০২৩ সেশনে নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি হলেন
চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান আব্দুর রাজ্জাক খান রাজ


স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফ বি সি সি আই’র নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি হলেন চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান আব্দুর রাজ্জাক খান রাজ। গতকাল রোববার এফ বি সি সি আই’ নির্বাচন কমিশন চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ আলী আশরাফএমপি, নির্বাচন বোর্ড সদস্য কে.এম.এন মানজুরুল হক ও মোঃ শামসুল আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আব্দুর রাজ্জাক খান রাজের সহ-সভাপতি নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান মিনিস্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান তরুন শিল্পপতি ও উদীয়মান রাজৈনিতিক আব্দুর রাজ্জাক খান রাজ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ সেশনে ভোট ছাড়াই এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি–সহসভাপতি হলেন যাঁরা,তারা হলেন এফবিসিসআইয়ের নতুন সভাপতি জসিম উদ্দিন।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) পরিচালক পদগুলোর মতোই সমঝোতার ভিত্তিতে সভাপতি ও সাত সহ-সভাপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন সভাপতি হয়েছেন বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন।

এফবিসিসিআইয়ের নতুন পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ সভাপতি হয়েছেন মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। তিনি রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি। অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে নির্বাচিত তিন সহ-সভাপতি হলেন এম এ মান্নান, মো. আমিন হেলালি ও হাবিব উল্লাহ। আর চেম্বার গ্রুপের তিন সহ-সভাপতি হচ্ছেন মো. আমিনুল হক শামীম, সালাউদ্দিন আলমগীর ও এমএ রাজ্জাক খান।

এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্ব নির্বাচনে ৫ মে সাধারণ সদস্যরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। কারণ, তার আগেই ৪৬ পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ ছাড়া ৩২ জন মনোনীত পরিচালকও একইভাবে নির্বাচনী বৈতরণি পার হয়েছেন। অবশ্য গতবারও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি সাধারণ সদস্যরা।

এফবিসিসিআইয়ের ২০২১-২৩ সাল মেয়াদি নির্বাচনের সর্বশেষ ধাপে গতকাল রোববার সভাপতি ও সাত সহ-সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়। আট পদে আটজনই মনোনয়ন জমা দেওয়ায় তাঁদের প্রত্যেককেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচন বোর্ড।
সংগঠনটির ২০২১-২৩ সাল মেয়াদি পরিচালনা পর্ষদে মোট পরিচালক পদ ৮০টি। এসব পদ আবার দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে দেশের জেলাভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন বা চেম্বার থেকে ৪০টি পরিচালক পদ। বাকি পদ পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর জন্য সংরক্ষিত। ৮০টি পরিচালক পদের মধ্যে ৪৬টিতে সাধারণ সদস্যরা ভোট দিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ পান। বাকি ৩৪টি পদে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সংগঠন থেকে মনোনীত পরিচালকেরা আসেন।

সমঝোতার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বারের আজিজুল হক, গাইবান্ধা চেম্বারের আবুল খায়ের মোরসেলিন, ফ্ল্যাক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আক্কাস মাহমুদ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ মালিক সমিতির মো. আলী জামান মনোনয়ন প্রত্যাহার করানো হয়।

এবারে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ১৭ জন করে ৩৪ জন মনোনীত পরিচালক পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৩২ জন ব্যবসায়ী। মনোনীত পরিচালক পদে প্রার্থী দেয়নি গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা)। অন্যদিকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ার জন্য চেম্বার গ্রুপের ২৩ পরিচালক পদের বিপরীতে ২৫ জন প্রার্থী হয়েছিলেন। আর অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ২৩ পরিচালক পদের বিপরীতে প্রার্থী হন ২৬ জন। পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) খেলাপি হওয়ায় কে এম আখতারুজ্জামান মনোনীত পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা হারালেও পরে প্রার্থিতা ফিরে পান। তিনি অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে পরিচালক হন।

পরে গত মাসে সমঝোতার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বারের আজিজুল হক, গাইবান্ধা চেম্বারের আবুল খায়ের মোরসেলিন, ফ্ল্যাক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আক্কাস মাহমুদ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ মালিক সমিতির মো. আলী জামান মনোনয়ন প্রত্যাহার করানো হয়। সে কারণে পদের বিপরীতে অতিরিক্ত কোনো প্রার্থী ছিল না। তাই ৪৬ পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
গতকাল রোববার বিকেলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন সভাপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বর্তমান সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। এ সময় বর্তমান এবং নবনির্বাচিত সহ-সভাপতিরাও উপস্থিত ছিলেন।