আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গার হারদীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্ছেদের পর সেই শূন্যস্থান যাতে আর বেদখল না হয়ে যায় সে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বেদখল হওয়া জমিতে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উচ্ছেদের পর গতকাল জমি মাপজোপ করে বুঝে নিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন আলীর উপস্থিতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ সাঈদ বেদখল জমি মাপজোপ করে বুঝে নেন। পুনরায় যাতে বেদখল না হয় সেজন্য ওই উদ্ধারকৃত জমি ঘিরে সুদৃশ্য ফুলের বাগান তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

এলাকাসূত্রে জানা যায়, হারদীস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটের দুপাশে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জমি দখল করে বেশকিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিলো। এমনকি পাটকাঠি ও বাঁশের হাট গড়ে উঠেছিলো। শহর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বেশ দূরে অবস্থিত হওয়ায় এ অবৈধ দখলের বিষয়টি সহজেই প্রশাসনের নজর এড়িয়েছে। তাছাড়া, দূর-দূরান্ত থেকে যারাই এখানে কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করতে আসেন, তারা স্বভাবতই স্থানীয়দের সাথে কোনো বিতন্ডায় জড়াতে চান না। এমন পরিস্থিতিতে যুগ যুগ ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জমিতে অবৈধভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে নির্বিঘেœ ব্যবসা করা সহজ হয়েছিলো। কিন্তু সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তাদের জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত মোন্তাজ খানের চায়ের দোকান, দীনু শেখের চায়ের দোকান, সুমনের চায়ের দোকান, তুফানের চায়ের দোকান, ফরিদ মীরের ফার্ণিচারের দোকান, সোহেল খানের হোটেলসহ বেশকিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পাটকাঠি উচ্ছেদ করে বেহাত হওয়া জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন আলী জানান, অবৈধভাবে নির্মিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের পর পুনরায় যাতে দখল করতে না পারে, সেজন্য জমি মাপজোপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হলো। এবার উদ্ধারকৃত জমি ঘিরে ফুলের বাগান তৈরি করা হবে। আমরা ইতোপূর্বে দেখেছি অবৈধ দখল উচ্ছেদের পর আবার কিছুদিনের ভেতরই তা দখল যায়। এখানে তা সম্ভব হবে না। সরকারি জমি উদ্ধারে কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করায় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ সাঈদের প্রশংসা করেন।