আলমডাঙ্গায় মেবাইল কোর্টের অভিযান থেকে নাম বাদ দেবার কথা বলে ইউএনএ’র নাম ভাঙ্গিয়ে দু’বেকারী মালিকের কাছে টাকা দাবী


আলমডাঙ্গা অফিস : আলমডাঙ্গায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নাম ভাঙিয়ে দু’বেকারী মালিকের কাছে টাকা চাওয়া হযেছে। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান থেকে নাম কাটিয়ে নেওয়ার কথা বলে মঙ্গলবার রাতে দু’বেকারী মালিকের কাছে টাকা চাওয়া হয়। এদিকে পৌর এলাকার সাবেক দুই কাউন্সিলরের কাছ থেকে নির্বাহী অফিসার পরিচয় দিয়ে ওই দুই বেকারী মালিকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হয়।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর দিনেশ বিশ্বাসের কাছে রাতে ৯ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিচয় দিয়ে তার ওয়ার্ডে কয়টা বেকারী আছে জানতে চায়। এসব বেকারীতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হবে জানিয়ে তাদের মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়। দিনেশ বিশ্বাস ইউনও ভেবে মডার্ন বেকারীর মালিক মিলন হেসেনের নাম্বার দেন। এ সময় মিলনকে ভ্রাম্যমান আদালতের বিষয়টি দিনেশ বিশ্বাস জানান। নাম্বার পাওয়ার পর ইউএনও পরিচায় দেওয়া ব্যক্তি মিলন হোসেনকে ফোন দিয়ে আলমডাঙ্গার ইউএনও বলে পরিচয় দেয়। এ সময় জানানো হয় ঢাকা থেকে ম্যাসেজ এসেছে সব বেকারিতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। প্রত্যেকের ৪০ /৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ আছে। ইচ্ছে করলে আপনি কিছু টাকা দিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত থেকে নাম কাটাতে পারেন। এর জন্য যে নাম্বারে কল দেওয়া সেই নাম্বারে ৮ হাজার টাকা বিকাশ করতে বলে। বেকারি মালিক পরদিন সকালের দিকে অফিসে টাকা দেওয়ার কথা বললে ইউএনও পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি এসব অফিসে আলোচনা না করার কথা বলে তখনই টাকা বিকাশে পাঠাতে বলেন।
এদিকে একই কায়দায় আরেক সাবেক কাউন্সিলর ইলিয়াছ হোসেনের কাছে তার ওয়ার্ডের বেকারি মালিকের মোবাইল নাম্বার চাওয়া হয়। ইলিয়াস হোসেন ক্যানেলপাড়ার মনিফুডের মালিকেরর মোবাইল নম্বর দেন। একই ভাবে মনি ফুডের মালিক মনিরুজ্জামান মনির কাছে ভ্রাম্যমান আদালত থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। মনিরুজ্জামান মনি সকালে টাকা দিবে জানালে ইউএনও পরিচয়দানকারি ব্যক্তি রাতেই অভিযান চালানো হবে বলে হুমকি দেন। এ ঘটনার পর বেকারী মালিকদের সন্দেহ হলে তারা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হন ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানার হুমকি প্রদানকারি ভুয়া ইউএনও।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবীর জানান, আমরা খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হয়েছি ফোন দেওয়া ব্যক্তি ভুয়া ইউএনও । তাকে ধরতে পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হবার পর থানার অফিসার ইনচার্জকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *