আধুনিক চিকিৎসার উপর ভরসা না করে কবিরাজী চিকিৎসাঃ১৮ দিন পরে আবারও সদর হাসপাতালে ভর্তি শিশু নুর মোহাম্মদ

★আমিতো ভেবেছিলাম ভাল হয়ে যাবে, এমন তো হওয়ার ছিল না : কবিরাজ আনিছ

আহসান আলম: আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই যুগেও মানুষ কবিরাজের পেছনে ছুটছেন। কবিরাজের চিকিৎসায় আদৌ কি সুস্থ্য হওয়া যায়? আধুনিক চিকিৎসার উপর কি মানুষের কি কোন আস্থা নেই? আমাদের মন এখনও কুসংস্কারে ভরা। কবিরাজের চিকিৎসায় যদি মানুষের রোগ ভালো হতো তাহলে মানুষ অনেক টাকা খচর করে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশ-বিদেশ যেতেন না। প্রবাদ আছে, চিলে কান নিয়ে গেল। কবিরাজের চিকিৎসা অনেকটা ওইরকম। নিজের কান না দেখেই চিলের পিছনে দেঁৗড়ানো। কবিরাজি চিকিৎসার কুসংস্কার থেকে সাধারণ মানুষকে আধুনিক চিকিৎসায় ফেরাতে আমাদের গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
এমনই এক কবিরাজের চিকিৎসায় পায়ের ক্ষত নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে নুর মোহাম্মদ নামের এক শিশু। কবিরাজের চিকিৎসায় সুস্থ্য না হয়ে তাকে পূনরায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নুর মোহাম্মদ (৭) ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডুর কেষ্টপুর গ্রামের রাজিবুল ইসলামের ছেলে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে নুর মোহাম্মদের শয্যাপাশে থাকা তার বাবা রাজিবুল ইসলাম বলেন, গত ১৯ মে বিকেলে বাড়ীর সামনে রাস্তা পার হচ্ছিল নুর মোহাম্মদ। এ সময় একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দিলে নুর মোহাম্মদের বাম পাঁ ভেঙে যায়। তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে নুর মোহাম্মদের মামা মুস্তাকুর রহমান তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে দামুড়হুদা উপজেলার রঘুনাথপুর কাদিপুর গ্রামের কবিরাজ আনিছের কাছে নেয়।
রাজিবুল ইসলাম আরও বলেন, কবিরাজ আনিছ গ্যারান্টি সহকারে নুর মোহাম্মদের বাম পায়ের হাড় জোড়া লাগিয়ে দেবে বলে ১৮ দিন ধরে নুর মোহাম্মদের পায়ে গাছ লাগিয়ে রাখে। এরই মাঝে নুর মোহাম্মদের পায়েল অবস্থার অবনতি হলে গতকাল সোমবার দুপুরে পুরনায় তাকে নেয়া হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বাম পায়ের ক্ষত নিয়ে নুর মোহাম্মদ নামের এক শিশুকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করেছি। অর্থপেডিক চিকিৎসক তাকে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।
এদিকে, সোমবার রাতে নুর মোহাম্মদের শয্যাপশে গেলে তার বর্তমান এক্স-রে রিপোর্টে দেখা যায় তার পায়ের হাড় জোড়া লাগে নি। আগের মতোই আছে।
এ ব্যপারে কবিরাজ আনিছের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, নুর মোহাম্মদ নামের এক শিশুকে আমার কাছে নিয়ে আসলে আমি তার পায়ে গাছ বেঁধে দিই। আমিতো ভেবেছিলাম ভাল হয়ে যাবে। এমন তো হওয়ার ছিল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *