কাজী সামসুর রহমান/মামুন-উর-রহমান : আজ ৪ ডিসেম্বর। জীবননগর পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত ২৯ বেলুচি রেজিমেন্টের সৈন্য মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর যৌথ হামলায় জীবননগর মাটি ছেড়ে পালিয়ে যায়। বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্রের এক খন্ড ভূমিতে আজকের এই দিনে উড়ানো হয় লাল-সবুজ খচিত বাংলার পতাকা। শত্রু বাহিনী মুক্ত হওয়ার আনন্দে উদ্ভাসিত মানুষ মুুক্তির উল্লাসে রাস্তায় নেমে আসে। বঙ্গ বন্ধুর স্বাধীনতার ডাকে ২৬ মার্চ হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীকে প্রতিহত করার জন্য আট মাসের শেষের দিকে একদল মুক্তিকামী মানুষ পাকিস্তানী বহরকে প্রতিহত করতে জীবননগর-কালীগঞ্জ সড়কের বঁাকা ব্রিক ফিল্ডের নিকট একটি বড় চটকা গাছের ডাল কেটে রাস্তায় বেরিকেড দেয়ার চেষ্টা করে।
হানাদার বাহিনী জীবননগর হাসাদাহ চলে এসেছে এই খবর পেয়ে রাস্তায় গাছ কাটা ফেলে সবাই পালিয়ে যায়। এই সুযোগে হানাদার বাহিনী জীবননগরে প্রবেশ করে। সিএ্যান্ডবি’র ডাক বাংলো, থানা ভবন, উথলী মাঠে তারা ব্যারাক তৈরী করে। এখান থেকে হানাদার বাহিনী জীবননগরের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর চালাতে থাকে নির্যাতন, অত্যাচার, নারী ধর্ষন ও লুটপাট। জীবননগর থানার তৎকালীন ওসি শহীদ আতিকুজ্জামান হানাদার বাহিনী আসার আগেই থানার মালখানা থেকে অস্ত্র নিয়ে তুলে দেন মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে। জীবননগর থানার বাঙ্গালী পুলিশ ফোর্স নিয়ে পাকিস্তানী পক্ষ ত্যাগ করে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন।
যুদ্ধে ট্রেনিং শেষে জীবননগরের যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গয়েশপুর গ্রামের রকিম উদ্দীন ও মনোহরপুর গ্রামের বদর উদ্দিনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর উপর বিচ্ছিন্নভাবে আক্রমন চালাতে থাকে। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর দত্তনগর মু্ক্ত হওয়ার পর তৎকালীন সময়ে ক্যাপ্টেন ও পরবর্তীতে সেনা প্রধান মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী এবং মেজর বর্মা ও মেজর দত্তের নেতৃত্বে মিত্র বাহিনী ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ভোরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং তুমুল যুদ্ধে হানাদার বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে। এ সময় দিশেহারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর একটি দল আশ্রয় নেয় উপজেলার উথলীর একটি ক্যানেলের ভিতর । এখানে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয় । এক সময় পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী যুদ্ধে পরারিজত হয়ে পিছু হটে এবং আন্দুলবাড়ীয়া-সাব্দালপুর হয়ে ঝিনাইদহের দিকে পালিয়ে যায়। স্বাধীন হয় জীবননগরের মাটি। উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *