চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রধান সড়কে ইজিবাইকসহ অবৈধ যানবহন চলাচল ছিল চোখে পড়ার মতো
আনন্দে করছে কেনা-কাটা: ছড়াচ্ছে করোনা: প্রশাসনের কঠোর নজরদারী প্রয়োজন
আহসান আলম: হাতে এক্স-রে পেপার, ইজিবাইকের সীটের নীচে লুকানো লাগেজ ব্যাগ। প্রশাসনের লোকজন ধরলেই বলছে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যাচ্ছি। শহরে প্রবেশ করতেই হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়। এমনকি গোপণে মার্কেট পর্যন্ত করতে দেখা গেছে গ্রাম থেকে শহরের প্রবেশ করা একাধীক ইজিবাইকের যাত্রীদের। অসুস্থতাকে পুঁজি করে লকডাউনের ভিতর একস্থান থেকে আরেক স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছেন অনেকে। করোনার বিস্তার ঠেকাতে চুয়াডাঙ্গায় চলমান লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে এমন ন্যাক্কারজনক দৃশ্য চোখে পড়েছে। করোনার বিস্তার রোধে সকলকে লকডাউন মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সেই সাথে খেটে খাওয়া মানুষগুলো যাতে সমস্যায় না পড়ে সে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে খাদ্য সহায়তার নিশ্চয়তা। লকডাউনের এই ৭ দিন অপ্রয়োজনে ইজিবাইক নিয়ে শহরে আসবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও অনেক ইজিবাইক চালক ও মালিক এ নিয়ম মানতে নারাজ। করোনার দ্বিতীয় দিনে চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রধান সড়কে ইজিবাইকসহ অবৈধ যানবাহন চলাচল ছিল চোখে পড়ার মতো।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গায় করোনার সংক্রমণ দিন দিন কঠিন আকার ধারন করছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় অবৈধ পথে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করার কারনে চুয়াডাঙ্গায় করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংক্রমণ যেমন বেড়েছে সেই সাথে মৃত্যুর সংখ্যাও সমান তালে বাড়ছে। করোনার বিস্তার রোধে রোববার থেকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়ন লকডাউন ঘোষণা করা হয়। শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্বেলন কক্ষে এক জরুরি সভায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার এ নির্দেশ প্রদান করেন।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন ঘোষণা করলেও অতিসচেতন কিছু মানুষের অসচেতনতার কারনে করোনার বিস্তার ঠেকানো দায় হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে চালানো হচ্ছে অভিযান। শহরের প্রবেশ দ্বারে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকলেও অসুস্থতাকে পুঁজি করে অভিনব কৌশলে অনেককে শহরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। শহরের প্রবেশ দ্বারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে আটকানো হলেও হাতে থাকা এক্স-রে পেপার দেখিয়ে বলা হচ্ছে হাসপাতালে যাচ্ছি চিকিৎসা নিতে। অনেকে হাসপাতালে গেলেও কিছু মানুষকে শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে নামতে দেখা গেছে। তাদেরকে প্রবেশ করতে দেখা গেছে বিভিন্ন মার্কেটে। ইজিবাইক থেকে নামতেই তাদের ভিতর অসুস্থতার লেশমাত্র দেখা যায়নি। ভাবটা এমন ছিল, প্রশাসনকে বোকা বানিয়ে তারা মহা খুশি।
অপরদিকে, শহরের অনেক মার্কেটরর দোকানে তালা ঝুলানো দেখা গেলেও দোকান মালিককে আসে পাশেই ঘুরতে দেখা গেছে। ক্রেতা আসলেই তালা খুলে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতে দেখা গেছে এবং প্রশাসনের চোখ এড়ানোর জন্য বাইরে পাহারা দিতে দেখা গেছে কর্মচারীকে। সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার নির্দেশ থাকলেও বড় বাজারের নীচের বাজারে অনেক দোকানদারকে বেলা ৩ টার দিকেও দোকান খোলা রেখে ব্যবসা চালিয়ে যেতে দেখা গেছে। দুরপাল্লার গাড়ি গুলোকে বাস টার্মিনালে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করার নির্দেশ থাকলেও অনেক বাসকে শহরের ভিতর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামানো করতে দেখা গেছে।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে চুয়াডাঙ্গা জেলা ভারতের মতো মহামারীতে রুপ নিতে বেশী সময় লাগবে না।